মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি

দেয়াঙে এর সামন্ত রাজা আনোপোড়মের নাম অনুসারে আনোয়ারা নামের উৎপত্তি হয়েছে। ১৫৯৩ সালে আরাকান রাজ মেঙ পলৌঙ মুসলিম নাম (সেকান্দার শাহ্) মৃত্যু বরণ করলে তার জ্যোষ্ঠ ছেলে মেঙ রাজ্যাগীমুসলিম নাম (সলিম শাহ্) আরাকানের রাজা হন (১৫৯৩-১৬১২) তার শাসন আমলে ১৬০৩ সালে দেয়াঙ এর সামন্ত রাজা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন আপন ভাই আনাপোড়ম। কেন্দ্রীয় রাজার অবাধ্যতার কারনে আরাকানের রাজা আশি হাজার সন্য ও সাত হাজার রণ হস্তির এক বিশাল বাহীনি নিয়ে সামন্ত রাজা আনাপড়োম এর সামন্ত রাজ্য দেয়াঙ আক্রমণ করেন। উভয় পক্ষে ঘোরতর যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এই যুদ্ধে রাজা আনাপোড়ম নিজে গুরুতর আহত হন এবং উভয় পক্ষের বিপুল সংখ্যাক লোক হতাহত হন। আরাকান বাহীনির তীব্র আক্রমণের মুখে আনাপোড়ম স্ত্রী, পুত্র, বোন অরুন্ধতীসহ পর্তুগীজ সেনাপতি গঞ্জালিশের সাথে প্রচুর ধন সম্পদ নিয়ে পর্তুগীজ যুদ্ধ জাহাজ যোগে সন্দ্বীপ এ পলায়ন করেন। অতপর: গঞ্জালিশের সাথে বোন অরুন্ধতীকে বিয়ে দেন। " Who Anaporam in Complianc with his Promise Paid Gonzales a lare sum of money and permitted his sister who turn christian and became the wife of the prite(Gonzales)": Stewart History of Bangal P-236 এর কিছুদিন পর আনাপোড়ম সন্দ্বীপ এ মারা যান। দেয়াঙ এর অধিবাসিরা তাদের প্রিয় রাজা আনাপোড়মকে হারিয়ে ক্ষোভ দু:খে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে মগ সন্যদের উপর। আনপোড়মের ধবংশ স্তুপ রাজ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে ঐ এলাকারটির নামকরণ হয়ে উঠে আনাপোড়া। অপরদিকে রাজা আনাপোড়মের রাজ কার্যালয়ের অবস্থান স্থল আনাপোড়া, আনোপাড়া, আন্‌ওয়ারা, আনোওয়ারা এবং সর্বশেষ আনোয়ারা নামে পরিচিতি লাভ করে।

 

আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ আনোয়ার খাঁ নামক কোন মুসলমানের নাম অনুসারে আনোয়ারা নামের উৎপত্তি বলে মনে করেন। কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্য মতে, সেই প্রাচীন আরাকান আমল থেকে মোগল ব্রিটিশ শাসন আমল পর্যন্ত 'আনোয়ারা' নামের কোন ঐতিহাসিক নারী কিংবা 'আনোয়ার খাঁ' নামের কোন পুরুষের নাম ইতিহাস পর্যালোচনায় পাওয়া যায় না। এমনকি 'আনোয়ারা' নামক এ কাব্যিক নামটি আরাকান রাজ সভার মধ্যযুগীয় কবি কিংবা পরবর্তী কোন কবির কাব্য খুঁজে পাওয়া যায় না।যে কারনে আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ আনোয়ারা নামের সঠিক সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারেননি। তবে আরাকানের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজা 'আনাপোড়ম' বহুল আলচিত একটি নাম যিনি ছিলেন তৎকালীন রোসাঙ্গ বা দেয়াঙ এর সামন্ত রাজা।

 

সম্রাট আকবরের(১৫৭৫-১৬০৫)  অর্থ সচিব রাজা তোডরমলের 'তকসীম জমাতে' সরকারের 'চাটিগাঁ' সাতটি পরগণার উল্লেখ রয়েছে তৎমধ্যে দেয়াঙ ও একটি পরগণা। ১৭৬১ সালের ২৩ জানুয়ারি নবাব মীর কাশিম কর্তৃক ইসলামাবাদ ইংরেজদের হাতে হস্তান্তরের পর মোগল শাসন বিলুপ্ত হয়। ইংরেজরা ইসলামাবাদকে চট্টগ্রাম নামকরণ করে শাসনকার্য শুরু করেন। ১৭৭২-১৭৮২ সাল পর্যন্ত দেয়াঙ পরগণার শাসন ব্যবস্থা দেওয়ানী ও ফৌজদারি দুই পদ্ধতি পরিচালিত হয়। তখন দেয়াঙ পরগণায় 'আনোওয়ারা মুন্সেফি আদালত' নামে একটি আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। কালেক্টর দেওয়ানি বিচারের সার্বিক তত্ত্বধায়ক হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারি ছিলেন। তাঁর অধিনস্থ দেওয়ানরা স্থানীয় সিভিল বিচারসমূহ নিস্পত্তি করতেন। ১৭৭২ সালে কমিটি অব সার্কিট পুনরায় চট্টগ্রামকে ৯টি চাকলায় বিভক্ত করেন। দেয়াঙ ছিল তার মধ্যে অন্যতম। দেয়াঙ চাকলার সীমানা নির্ধারণ করা হয় এভাবে-চোয়াঞ্জা ও চাঁনখালী নালার পশ্চিমে, কর্ণফুলীর পূর্বে ও দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরের পূর্বে শঙ্খ নদীর উত্তরে। ১৭৭২ থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত দেয়াঙ পরগণা বা দেয়াঙ চাকলায় দেওয়ান হিসেবে যে কয়জনের নাম পাওয়া যায় তাঁরা হলেন: বড়উঠানের দেওয়ান মনোহর আলী খান, দেওয়ান হোসাইন খান, পরৈকোড়ার লালারাম রায়, কালী চরণ রায়, গৌরী সংকর রায়, দেওয়া বৌদ্ধ নাথ, আনোয়ার আলী খান প্রমুখ। ১৮৯০ সালের ৭ ডিসেম্বর ইংরেজ সরকার পুনরায় এক ফরমান বলে দেয়াঙ চাকলাকে দ্বি-খন্ডিত করেন। এক অংশে আনোওয়ারা, বারখাইন, হাইলধর, পরৈকোড়া, বটতলী, বরুমচড়া, রায়পুর, বৈরাগ, বারশত ইউনিয়ন নিয়ে ৬৬ বর্গমাইল এলাকার সমন্বয়ে পূর্ব নাম আনোওয়ারা থেকে 'ও' শব্দ বাদ দিয়ে 'আনোয়ারা' থানা নমকরণ করে। ১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকারের থানা প্রশাসন পুনর্বিন্যাস অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর অনুবলে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচীর আওতায় আনোয়ারা থানা উপজেলার মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়। প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সম্পন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব আতিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং প্রথম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন এডভোকেট শাহাদত হোসেন চৌধুরী।

 

 উৎস: দেয়াঙ পরগণার ইতিহাস: জামাল উদ্দিন,পৃষ্টা নং-৫০ হতে ৫৩,(আংশিক সংশোধিত)